ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা নিজেরা দুর্নীতি করব না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকেও প্রশ্রয় দেব না। দেশে সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে—এখানে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে না।”
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই সনদ এবং সংস্কারের সব প্রস্তাব মেনে নিয়ে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করতে হবে। এই তিনটি শর্তে যারা একমত হয়েছে, তাদের নিয়েই আমরা ১১ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আমরা আগামী দিনে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। এটি জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন। বহু রক্তের বিনিময়ে আমরা এই নির্বাচন পেয়েছি। যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে ‘চব্বিশ’ এনে দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই। সেই ত্যাগের ফলেই আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছি।”
ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে শিশু, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ—সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে। আমাদের মায়েরা ঘরে, পথে, কর্মস্থলে নিরাপদ থাকবে এবং সমাজে মর্যাদা পাবে।”
শিক্ষা ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা চাই, যা দেশপ্রেমিক ও দক্ষ নাগরিক তৈরি করবে। আমাদের যুবসমাজ কারও কাছে বেকার ভাতা চাইবে না। আমরা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করছি।”
আইনের সমতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “একজন সাধারণ মানুষ কিংবা দেশের প্রধানমন্ত্রী—অপরাধ যদি একই হয়, শাস্তিও হবে একই। ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় থাকবে না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে জনগণ সব ক্ষেত্রে তাদের অধিকার ফিরে পাবে।”
নারী শ্রমিকদের অধিকার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “কর্মজীবী মায়েদের জন্য বেবি কেয়ার ও ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে। শিল্পাঞ্চলে বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। রাষ্ট্র শ্রমিকদের অবহেলা করতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “এই রাষ্ট্র শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড় করাবে না। শ্রমিক না চাইতেই তার দাবি পৌঁছে দেওয়া হবে।”
জনসভায় ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’। দ্বিতীয় ভোট হবে দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার প্রতীক—ইনসাফের দাঁড়িপাল্লায়।”